Academy

একটি অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে আড়পাড়া ও জামতৈল গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং তা দ্রুত অন্যান্য গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি মীমাংসার জন্য বসে একতরফাভাবে আড়পাড়াকে দায়ী করে এবং তার ওপর ক্ষয়ক্ষতির বোঝা চাপিয়ে দেয়। একতরফা এ রায়ের খেসারত একসময় সকল গ্রামকেই দিতে হয়।

উদ্দীপকের ঘটনাটি তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট? ব্যাখ্যা কর। (প্রয়োগ)

Created: 2 months ago | Updated: 2 months ago
Updated: 2 months ago
Ans :

উদ্দীপকের ঘটনাটি আমার পাঠ্যপুস্তকের ভার্সাই সন্ধির সাথে সংশ্লিষ্ট।
সারায়েভো হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয় এবং প্রায় পুরো বিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তিনটি মহাদেশের ৩৪টি দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। চার বছরের অধিককাল স্থায়ী এ যুদ্ধে জার্মানি পরাজিত হলে বিজয়ী বিশ্বশক্তি জোট ১৯১৯ সালে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে জার্মানিকে একটি চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য করে। সন্ধি স্বাক্ষরের পূর্বে ভার্সাই সন্ধির খসড়া জার্মানিকে দেওয়া হয়নি। তাই পরবর্তীতে জার্মানিরা এ সন্ধিকে চাপিয়ে দেওয়া সন্ধি বলে অভিহিত করে এবং প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে আড়পাড়া ও জামতৈল গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং তা দ্রুত অন্যান্য গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি মীমাংসার জন্য বসে একতরফাভাবে আড়পাড়াকে দায়ী করে এবং তার ওপর ক্ষয়ক্ষতির বোঝা চাপিয়ে দেয়, যা ভার্সাই সন্ধির ঘটনাকে ইঙ্গিত করে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ভার্সাই সন্ধির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

2 months ago

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ভার্সাই সন্ধি ও লীগ অব নেশনস

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

'লিজিয়ন অব অনার' হচ্ছে এক ধরনের উপাধি, যা ১৮০২ সালের ১৯ মে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট প্রবর্তন করেন। এটি ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সম্মাননা। লিজিয়ন অব অনার পাঁচ ভাগে বিভক্ত। যথা- ১. নাইট, ২. অফিসার, ৩. কমান্ডার, ৪. গ্র্যান্ড অফিসার ও ৫. গ্র্যান্ড ক্রস

উক্ত ঘটনার অর্থাৎ ভার্সাই সন্ধির প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী-উক্তিটি যথার্থ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের ফলে মিত্রশক্তি ১৯১৯ সালের ২৮ জুন জার্মানির কাঁধে ভার্সাই সন্ধি চাপিয়ে দেয়। এ সন্ধিতে প্রথম। বিশ্বযুদ্ধের যাবতীয় ক্ষতিপূরণ জার্মানিকে দিতে বাধ্য করা হয়।। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে জার্মানির নিকট থেকে ১৩২ বিলিয়ন স্বর্ণমুদ্রা আদায় করা হয়। জার্মানির সৈন্য সংখ্যা এক লাখে সীমিত করা হয়। যুদ্ধের সরঞ্জাম উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি নিষিদ্ধ করা

হয়। রাইন নদীর ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সকল জার্মান দূর্গ। সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়। সন্ধি অনুযায়ী জার্মানি তার আলসাস
লোরেন ও খনিসমৃদ্ধ সার অঞ্চল ১৫ বছরের জন্য ফ্রান্সকে ছেড়ে দেয়। জার্মানি ভার্সাই সন্ধির কঠোরতায় ন্যুব্জ হয়ে পড়েছি জার্মানবাসী ভেতরে ভেতরে ফুসছিল এ সন্ধির নাগপাশ থেকে মুরি পাওয়ার জন্য। এ সময় উগ্র জাতীয়তাবাদী হিটলাটের আবির্ভাব ঘটে হিটলার ভার্সাই সন্ধির নিষ্ঠুরতা থেকে জার্মানবাসীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য এবং জার্মানির আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য মিত্রশক্তির বিরূদ্দে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এভাবেই ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয় এবং বিশ্ব আবার বিপর্যয়ের মুখে পতিত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, ভার্সাই সন্ধির ক্ষতিকর প্রভাবই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে অনিবার্য করে তুলেছিল।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জার্মান দার্শনিক, পণ্ডিত ও ঐতিহাসিকগণ এ কথা প্রচার করতে থাকেন যে জার্মানগণ হচ্ছে বিশুদ্ধ আর্য এবং বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি। ক্রমে এ জাতীয়তাবাদী ধারণা ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, রাশিয়া প্রভৃতি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। জার্মান জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য অস্ত্রের ভাষা প্রয়োগ করে। ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার জাতিগত বিদ্বেষ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ অবস্থাকে উগ্র জাতীয়তাবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

উদ্দীপকের উল্লিখিত পরিস্থিতির সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী পরস্পর বিরোধী ত্রিশক্তি জোট ও ত্রিশক্তি আঁতাত জোট গঠনের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ত্রিশক্তি জোট ও ত্রিশক্তির আঁতাত, জোট গঠিত হয়। এই পরস্পর বিরোধী জোট দুটি ইউরোপীয় পুঁজিবাদী দেশসমূহকে দ্বিমুখী শক্তিতে রূপান্তরিত করে। ১৮৭২ সালে জার্মানি ফ্রান্সকে মিত্রহীন করার লক্ষ্যে রাশিয়া ও অস্ট্রো-হাঙ্গেরির সাথে মিত্রতা স্থাপন করে। কিন্তু ১৮৭৭-৭৮ সালে রুশ-তুরস্ক ত্রিশক্তি চুক্তি ত্যাগ করে। এরপর জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও ইতালি ১৮৮২ সালে ত্রিশক্তির চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। অপরদিকে, রাশিয়া-ফ্রান্স ১৮৯২ সালে দ্বিশক্তি মৈত্রী স্থাপন করে। আর ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মৈত্রী ছিল আফ্রিকার সাম্রাজ্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। নিজেদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে

রাশিয়া, ফ্রান্স ও ব্রিটেন ত্রিশক্তির আঁতাত গঠন করে। উদ্দীপকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এক গোপন চুক্তিতে আবদ্ধ হয় এবং রাশিয়া ও ভারত অন্য একটি গোপন চুক্তিতে আবন্ধ হয়। আর এই দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দেয়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের দুই চুক্তির সাতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ের ত্রিশক্তির ও ত্রিশক্তির আঁতাতের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...